Main Menu

করের বোঝার প্রভাব কোমল পানীয়ের দামে….

এক বোতল কোমল পানীয় উৎপাদনে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে বাংলাদেশি বেভারেজ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পানীয় উৎপাদনে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ২৯ দশমিক ২ শতাংশ কর দিতে হয়। এ ছাড়া পানীয় তৈরির কাঁচামালেও শুল্ক-কর প্রতি বছর বাড়ানো হচ্ছে। অতিরিক্ত এই করের বোঝার কারণে দেশীয় বাজারে পানীয়ের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাজার কাক্সিক্ষত পর্যায়ে বিস্তার লাভ করছে না। পাশাপাশি বাংলাদেশি উৎপাদনকারীদের পানীয় রফতানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা গড়ে উঠছে না।
সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বেভারেজ খাতের কর কাঠামোর প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বেভারেজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিরামিক ওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ ছাড়া শুল্কনীতির সদস্য লুৎফর রহমান, আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, ভ্যাট নীতির সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেভারেজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ শামীম হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বেভারেজ পণ্য উৎপাদনের কর সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ভোগের দিক থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। কর কমানো হলে পণ্যের দাম কমবে। এতে ভোগের পরিমাণ বাড়বে। মাথাপিছু ভোগ বাড়লে টার্নওভারও বাড়বে। ফলে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তাই কোমল পানীয়ের কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। প্রাণ বেভারেজের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ১৩৪টির বেশি দেশে প্রাণের পণ্য রফতানি হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রাণের সব ধরনের পণ্যই বাজার দখল করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু বেভারেজ আইটেম ছাড়া। কারণ কোমল পানীয় উৎপাদনে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে। আর ভারতে আরো কম কর দিতে হচ্ছে। তাই প্রাণ ভারতের আসাম ও ত্রিপুরায় বিনিয়োগ করছে। ওইখানের উৎপাদিত পণ্য ভারতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সিরামিক ওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, নতুন ভ্যাট আইন সংশোধনে আপত্তি নেই। তবে সিরামিক খাতে উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছবে। এক হিসাবে দেখা গেছে, এর ফলে ৩৬ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে আমদানি করা সিরামিক পণ্যের শুল্ককর ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশে নেমে আসবে। এতে বাংলাদেশের সিরামিক শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের আগে সিরামিক খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।
তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু আমদানিকারক আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে সিরামিক পণ্য আমদানি করে বাজারে বিক্রি করছে। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা মার খাচ্ছে। তাই সিরামিক পণ্য আমদানির ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। মুন্নু সিরামিকের ভাইস চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম বলেন, চীনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মেলায় সিরামিক পণ্যে দর যাচাই করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে এর চেয়ে কম দামে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকে থাকছে পারছে না। তাই শিল্পের স্বার্থে আন্ডার ইনভেসিং বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, কর অব্যাহতির পরিমাণ হিসাব করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শুধু কর আহরণের হিসাব দেয়া হবে না। এর সঙ্গে কোন খাতকে কী পরিমাণ কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে রাজস্বের সংশ্লেষ তুলে ধরা হবে। এগুলো একত্রে যোগ করলে দেখা যাবে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

− 2 = 2

Skip to toolbar