Main Menu

চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা

aaএস এম সাব্বির : “চিকিৎসার নামে প্রতারণা” এই কথাটি আমাদের আর কত কাল শুনতে হবে জানিনা। সৃষ্টিকর্তার পরে যারা আমাদেরকে জীবন দান করেন, তারা হলেন ডাক্তার। আমরা রোগ-ব্যাধীগ্রস্থ হলে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হই। যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারি। আজ সেখানেও চলছে প্রতারণার প্রতিযোগিতা। তবে আমাদের দেশে এই প্রবণতাটা একটু বেশি। এখানে যাবতীয় খাদ্যদ্রব্যে যাচ্ছেতাই ভেজাল দেয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার নামেও চলছে যথেষ্ট প্রতারণা। ডিগ্রিবিহীন ভুয়া ডাক্তার-বদ্যি-ওঝার অস্তিত্ব তো আছেই। পাশাপাশি রয়েছে ভুয়া চিকিৎসার নামে অভিনব, আকর্ষণীয়, লোভনীয় ও চটকদার সব বিজ্ঞাপন-লিফলেটের দৌরাত্ব। গোপালগঞ্জসহ দেশের সর্বত্রই এদের আধিপত্য চোখে পড়ে। রোগা মানুষকে মোটা এবং মোটা মানুষকে চিকন করার প্রলোভন দেখানো তো আছেই। এর পাশাপাশি রয়েছে ত্বকের রঙ ফর্সা, যৌন, পাইলসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের সু-চিকিৎসার চটকদার দাবি। তাও আবার একেবারে গ্যারান্টিসহকারে। এসকল চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠান কতটা সু-চিকিৎসা দেয় তা ভুক্তভোগীরা ছাড়া কেউ বুঝবেন না। অর্থের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে কেউ কেউ ৭ দিন, ১০ দিন, ১৫ দিনে কোন মানুষকে সুন্দর করে তোলার বা রোগ মুক্তির গ্যারান্টি দিয়ে থাকেন তারা। এতে পুরুষের পাশাপাশি বিশেষ করে মেয়েরা আকৃষ্ট হচ্ছে বেশি। বাজারে আজকাল নানা নামিদামি কোম্পানির পাশাপাশি অনেক অজ্ঞাত-অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের ত্বক ফর্সা করার ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট, লোশন ইত্যাদি পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি রয়েছে ব্রণ, মেছতা, জš§দাগ, তিল, জরুল, আঁচিল ইত্যাদির চিকিৎসা। বাস্তবতা হল, এসবের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাও যে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই, তা নয়। তবে এসবের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি, রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি বেশ জটিল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল সর্বোপরি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। জš§গত কোন ত্রুটি তথা ত্বকের রঙ থেকে সহজে মুক্তি মেলে না। অথচ সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক শিক্ষিত ও সচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নারী-পুরুষও হামেশাই প্রতারিত হচ্ছেন এসব ভুয়া চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক। এই শ্রেণীর আবার দালাল চক্রও আছে, যারা রোগীকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে আসে এসব স্থানে। নানারকম লোভনীয় অফারের কথা বলে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। কিন্তু এসব যে মূলত প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়, তা বুঝতে পারেন অনেক পরেÑ ব্যাপক স্বাস্থ্যহানিসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অন্যান্য জটিল রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পর। এখানে আরেকটি কথা না বল্লেই নয় এসকল প্রতিষ্ঠানের প্রায় প্রতিটি ঔষধের বিজ্ঞাপনে বড় করে লেখা থাকে “কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই”। গোপালগঞ্জে এধরনের রেজিষ্ট্রেশন বিহিন ও ভূয়া রেজিষ্ট্রেশনধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই গড়ে উঠে শহরের আস-পাশ দিয়ে। যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখ ফাকি দেয়া যায়। “কর্তৃপক্ষের চোখ এড়ানো” এ কথা বলে অবশ্য সাধারণ মানুষকে বোঝানো খুব মুশকিল ব্যাপার। যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন বা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে নজড় এড়ানোর প্রশ্নই আসে না। যাই হোক, এ অবস্থায় এসব ভুয়া চিকিৎসালয় থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকাই ভালো। চটকদার বিজ্ঞাপনের লোভনীয় ফাঁদে পারতপক্ষে পা না দেয়াই শ্রেয়। স্বাস্থ্য বিভাগ ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, এগুলোর অধিকাংশের বৈধতা তথা লাইসেন্স নেই। খুব শিগগিরই নাকি এসব উচ্ছেদে তারা অভিযান পরিচালনা করবে। আমরা এসব ভুয়া চিকিৎসালয়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান ও জেল-জরিমানাসহ শাস্তির বিধান কার্যকর দেখতে চাই।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

69 − = 61

Skip to toolbar