Main Menu

ট্রাইব্যুনালে মামলার নির্দেশ তারেকের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নির্দেশের পর দল মামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ৬৪ জেলা থেকে একজন করে ৬৪ জন ধানের শীষের প্রার্থী হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন। তবে ‘অতীত অভিজ্ঞতার’ দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মামলায় তেমন আগ্রহ নেই অনেক নেতারই। এজন্য তাদের অনেকেই মামলার বাদী হতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির একজন শীর্ষ নেতা।

তিনি মানবকণ্ঠকে বলেন, এমনিই হামলা-মামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া দলের নেতাকর্মী। মামলা করার পর যদি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ প্রশাসন আবার ধরপাকড় শুরু করে দেয়, তাহলে আবারো মাঠ ছাড়া হয়ে যাবে নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ নেতা বলেন, এ ভয়ে প্রার্থীরা মামলা করতে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করলেও তার অনুমতিক্রমে এ বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তারা বলেন, বিএনপির নেতাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি নেই। সব নেতাদের সমন্বয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দূরদেশ লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করে আসছেন।

ভুল বোঝাবুঝি প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভুলভ্রান্তি সবারই হয়। তবে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ আপনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আপনিই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীদের ধৈর্য ধরতে হয়। তাড়াহুড়ো করবেন না। তিনি বলেন, তারেক রহমানের দিকে অনেকেই চেয়ে আছে। আপনার সঠিক সিদ্ধান্তে আন্দোলন গড়ে উঠবে। আর আন্দোলন গড়ে না উঠলে খালেদা জিয়া সহজে মুক্তি পাবেন না। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনি আপনার দলের বৈঠক অবশ্যই করবেন। তবে সেখানে আপনার সিনিয়র নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলেন, তাদের মাধ্যমেই এসব বৈঠক করেন।

এদিকে মামলার বিষয়ে গত শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্কাইপিতে লন্ডন থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই দিন বিকেল ৫টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে। বৈঠকটি হঠাৎ হয়েছে বলে মানবকণ্ঠের কাছে দাবি করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৈঠক আহ্বান করা হয়নি। দলের কয়েকজন নেতা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

রিজভী আরো বলেন, মামলা করার বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই মামলা করা হবে। অপরদিকে বৈঠকে মামলা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় নির্বাচনে নানা অনিয়ম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের হামলা ও মামলার ঘটনা তারেক রহমানকে অবহিত করেন দলীয় প্রার্থীরা। জানা গেছে, এদিন কয়েক দফায় প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। প্রায় প্রত্যেক নেতাই নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় তারেক রহমান পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে তাদের মতামতও জানতে চান। বৈঠকে অংশ নেয়া এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠকে নেতারা নির্বাচনে নানা অনিয়মের চিত্র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন।

বিএনপি গণহারে মামলা করবে না বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের জানান। এক্ষেত্রে প্রত্যেক জেলায় একজন করে ৬৪টি জেলা থেকে মোট ৬৪ জন প্রার্থী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে। আগামী সপ্তাহে এ মামলা করা হবে। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মামলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ওই নেতা আরো বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ করতে চায় বিএনপি। ট্রাইব্যুনাল আমাদের মামলাগুলো আমলে না নিয়ে সরকারের নির্দেশমতো রায় দিলে সেটাও আমরা বিশ্বকে জানাব।

ওই বৈঠকে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জয়নুল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, শরিফুল আলম, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জিকে গউছ, আজিজুল বারী হেলাল, লুৎফর রহমান কাজল, শামা ওবায়েদ, মিজানুর রহমান মিনু, রফিকুল আলম মজনু, মাইনুল ইসলাম খান শান্ত, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহিরউদ্দিন স্বপন, নিতাই রায় চৌধুরী, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হাজী মুজিব, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, শাজাহান মিয়া প্রমুখ।

বৈঠকে অংশ নেয়া একজন প্রার্থী জানান, প্রথমে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনে যেসব অনিয়ম হয়েছে তার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে। এরপর দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয় এটা কাউকে চাপিয়ে দেয়া হবে না, দল থেকে কোনো প্রার্থী মামলা করতে চাইলে করতে পারবে। এরপর আবার সিদ্ধান্ত হয় প্রতীকী অর্থে কয়েকটি আসনে করা হবে। কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৬৪ জেলা থেকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। যারা মামলা করবে তাদের ডেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আইনজীবী নিয়োগসহ যাবতীয় খরচ দলের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।

পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা মামলা করবেন। এ ছাড়া দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠকে অংশ নেয়া চেয়ারপার্সনের ৩ জন উপদেষ্টা মানবকণ্ঠকে জানান। অন্যদিকে দলটির একাধিক সূত্র জানায়, ৬৪ জেলা থেকে ৬৪ জন ধানের শীষের প্রার্থীকে মামলা করতে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

প্রার্থীদের মধ্যে ভোলা থেকে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বরিশালের জহির উদ্দিন স্বপন, পিরোজপুরে রুহুল আমিন দুলাল, খুলনায় রকিবুল ইসলাম বকুল, সাতক্ষীরায় হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পটুয়াখালীতে এবিএম মোশাররফ হোসেন, মাগুরায় নিতাই রায় চৌধুরী, যশোরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পাবনায় হাবিবুর রহমান হাবিব, সিরাজগঞ্জে আমিরুল ইসলাম খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. শাহজাহান মিয়া, ঝিনাইদহে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঝালকাঠি জীবা আমিন খান, জামালপুর শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, ময়মনসিংহে আবু ওহাব আকন্দ, নেত্রকোনা আনোয়ারুল হক, কিশোরগঞ্জ শরীফুল আলম, ঢাকা ইরফান ইবনে আমান অমি, ফরিদপুরে শামা ওবায়েদ, হবিগঞ্জে জিকে গউছ, কক্সবাজার থেকে লৎফুর রহমান কাজল মামলা করবেন। বাকি জেলা থেকেও মামলা করার জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর গত দুই দিন যাবত সারাদেশে ৩শ’ প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করছেন। তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির সব ডকুমেন্ট আকারে ফাইল করতে। সেই ফাইল আগামী সপ্তাহ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

4 + 6 =

Skip to toolbar