Main Menu

দুই তরুণী ধর্ষণ….আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

বনানীতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে জড়িতদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি।

সোমবার বিকেল থেকে ডিএমপির নির্দেশনায় বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তোভোগী তরুনীদের একজন গতকাল ক্ষুব্ধ কণ্ঠে এই প্রতিবেদককে বলেন, গণমাধ্যম আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাসার ঠিকানা উল্লেখ করে নিউজ করছে। তারা কি একবারও ভাবছে না এতে আমাদের সামাজিক অবস্থানটা কোথায় যাবে? আমরা কিভাবে বাঁচবো?

তিনি বলেন, মানছি আমাদেরও দোষ ছিল। কিন্তু আমরাতো ধর্ষিত হতে চাইনি। কিন্তু সমাজ শুধু আমাদেরই দোষী ভাবছে!’ এতদিন পর মামলা করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানসম্মানের ভয়ে তারা প্রথমে মামলা করতে চাননি। তবে সেদিন রাতের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়ায় তারা মামলা করতে বাধ্য হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিযুক্তদের বান্ধবী নাজিয়া ও তানজি আলিশাকে আটক করা হতে পারে। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং মামলার সাক্ষী হিসেবে তারা গুরুত্বপূর্ন বলে মনে করছে পুলিশ। মামলাতেও এই দুই বান্ধীবর রহস্যজনক আচরনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) বনানী থানার ওসি(তদন্ত) আব্দুল মতিন বলেন, ‘অভিযুক্তদের দুই বান্ধবীকে ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা চলছে। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে আপাতত কোনো আটক কিংবা গ্রেফতার নেই। আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ডিবি’র উপ-কমিশনার(উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেছেন, ইতিমধ্যে আসামীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। আজ থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আরো কিছু তথ্য আমাদের জানা দরকার সেগুলো আমরা থানা থেকে নেব। ডিবি পুলিশ তাদের মতই কাজ করবে। তারা বাইরে পালিয়ে গেছে কিনা এমন কিছু জানা নেই। তবে তারা যাতে বাইরে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশকে।

অন্যদিকে মামলার এক নম্বর আসামী সাফাত আহমেদের বাবা ও আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বলেছেন, তার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। ছেলের সাবেক স্ত্রী পিয়াসা তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, দুই বছর আগে প্রেম করে পিয়াসার সঙ্গে সাফাতের বিয়ে হয়। পরে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এখন পিয়াসাই এসব করাচ্ছে। মামলা করার সময়ও পিয়াসা বনানী থানায় উপস্থিত ছিল।

তবে পিয়াসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযোগকারীরা তার পূর্বপরিচিত বলেই তিনি সেদিন তাদের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন।

দিলদার আহমেদ আরো জানান, সেদিন যদি কিছু হয়ে থাকে তবে তা সমঝোতার ভিত্তিতেই হয়েছে। ছেলের সঙ্গে তার নিয়মিত কথা হচ্ছে উল্লেথ করে তিনি বলেন, সে ধর্ষণ করেনি বলে তাকে জানিয়েছে। সাফাতকে এখনো পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেনি বলে জানান তিনি।

গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর একটি রেস্টুরেন্টে দুই ছাত্রীকে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতসহ ২ জন জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ঐ ছাত্রীদের একজন গত শনিবার বনানী থানায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা করেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

+ 43 = 53

Skip to toolbar