Main Menu

ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে বরিশালকে কাঁদিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের শেষ বলে জয় নিশ্চিত করে বরিশালকে কাঁদিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতলো মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ইনিংসের শেষ বলে ৩ উইকেট হাতে রেখে বরিশালের দেয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য টপকে যায় কুমিল্লা। এর ফলে বিপিএলের তৃতীয় আসরে টানা তিন শিরোপা জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়লেন মাশরাফি।
বরিশালের দেয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্যে ওপেনার ইমরুল কায়েস ও দলের পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের ব্যাটে বেশ ভালভাবেই এগুতে থাকে মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলীয় ২৩ রানে ওপেনার লিটন দাসের বিদায়ের পর আহমেদ শেহজাদকে নিয়ে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকেন আসরে দারুণ ছন্দে থাকা ইমরুল কায়েস। 12859
দলীয় ৭৭ রানে শেহজাদকে বিদায় দেন মাহমুদউল্লাহ। তবে অপর প্রান্তে থেকে অর্ধশতক তুলে নেন ইমরুল। তবে তাকেও ফিরিয়ে বরিশালকে ম্যাচে ফেরান অধিনায়ক। ৯২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনের পর ধীর হয়ে যায় কুমিল্লার রানের গতি। এর সঙ্গে যোগ হয় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন। তবে এর মধ্যেই দাঁড়িয়ে থেকে একাই লড়াই চালিয়ে যান দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অলোক কাপালি।
দলের জয়ের জন্য শেষ ৮ বলে দরকার ছিল ২১ রান। সেই প্রায় অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেন কাপালি। মোকাবিলা করা শেষ ছয় বলে চারটি চারের মারে জয় নিশ্চিত করেন কাপালি। ইনিংসের শেষ বলে ১ রান নিয়েই জয়ের উল্লাসে মাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বরিশালের মাহমুদউল্লাহ ও কেভন কুপার নেন ২টি করে উইকেট।
এর আগে বরিশালের ইনিংসের শুরু থেকে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলতে থাকেন বরিশালের দুই ওপেনার মেহেদী মারুফ ও সিকুগ্গে প্রসন্ন। দলীয় ১৯ রানের মাথায় মারুফকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন আশার জাইদি। ১৩ বলে ১১ রান করে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন মারুফ।
এরপর সাব্বির রহমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন প্রসন্ন। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ১৯ বলে ৩৩ রান করে স্টিভেন্সের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান প্রসন্ন। কিন্তু তখনো ক্রিজে ছিলেন গত দুই ম্যাচে অসাধারণ খেলা সাব্বির। তবে আজ আর তাকে জ্বলে ওঠার সময় দেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। দলীয় ৬৮ রানের মাথায় বোল্ড করে সাব্বিরকে সাজঘরে ফেরান নড়াইল এক্সপ্রেস। স্বভাববিরুদ্ধ খেলে ১৯ বলে ৯ রান করে ফিরে যান সাব্বির।
সাব্বিরের বিদায়ে বড় এক ধাক্কা খায় বরিশাল। কিন্তু সেখান থেকে দলকে টেনে তোলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লা রিয়াদ ও শাহরিয়ার নাফীসের ৫৬ বলে খেলা ৮১ রানের বিস্ফোরক জুটিটি। ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ১৪৯ রানের মাথায় কুলাসেকেরার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। শাহরিয়ার নাফীসের ৩১ বলে খেলা অপরাজিত ৪৪ রানের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে বরিশাল। বরিশালের উইকেট চারটি ভাগাভাগি করে নেন মাশরাফি, স্টিভেন্স, কুলাসেকেরা ও জাইদি।
২৮ বলে ৩৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন অলোক কাপালি। আর দলের শিরোপা জয়ে অসাধারণ অবদান রেখে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন কুমিল্লার পাকিস্তানী অলরাউন্ডার আশার জাইদি।
প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও এরপর আর পা ফঁসকায় নি মাশরাফিদের। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলে যোগ্যতম দল হিসেবে শিরোপা জয় করেই তবে শেষ হলো ভিক্টোরিয়ান্সের বিপিএল মিশন।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

41 − 36 =

Skip to toolbar