Main Menu

ভুলে ভরা বাংলা বানান!

wefমাসুদ রায়হান পলাশ: ন না ণ, স নাকি ষ, ই কার নাকি ঈ কার কোনটা কোথায় সঠিক, এমন বিভ্রান্তি যেন সর্বত্রই। বাংলা একাডেমি কতৃক সঠিক বানানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকলেও মানতে নারাজ সবাই। কিন্তু এই বাংলা ভাষার রয়েছে এক গৌরবাজ্জল ইতিহাস যা পৃথিবীতেই বিরল। ১৯৫২, ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার সম্মান। ভাষা আন্দোলনের ৬৪ বছর পরও বাংলা বানানের ব্যাপারে আমরা বড়ই উদাসিন। রাজধানী ঘুরে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তার বিভিন্ন বিলবোর্ড বা ব্যানারে ‘ভুলে ভরা বাংলা বানান’

বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বাংলা একাডেমি, সুপ্রিম কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাস্তায় সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ডগুলো এখনো ভুল বানান থেকে রেহায় পায়নি। এই ভুল যেন আমাদের কাছে কোন ব্যাপারই না। বিশেষ করে ইংরেজি বানানের ব্যাপারে আমরা একেবারেই উদাসিন, যেন আমাদের চোখেই পড়েনা। আড়ং মোড় হতে হেঁটে যাত্রা শুরু, গন্তব্য সাইন্সল্যাবের দিকে। এ আর প্লাজার আশে পাশে কয়েকটি ফার্মেসি ও ফটোস্ট্যাটের দোকান নজরে আসে, যার প্রত্যেকটির সাইনবোর্ডে লেখা ‘ফার্মেসী’ এবং ‘ফটোষ্ট্যাট’। একটু সামনে এগোতেই রাসেল স্কায়ার, সেখানে লাজ ফার্মার যতগুলি দোকান সবগুলিতেই ফার্মেসি বানানে তো ভুল লেখায়, সাথে কয়েকটি দোকানে স্টোর বানানকে ‘ষ্টোর’ করে লেখা। কলাবাগান যেতেই নজর পড়ে ‘সামিম এন্ড কোম্পানী’ নামে স্টোরে, যেখানে ‘ব্যাটারী’ বিক্রি করা হয়।

ল্যাব এইড পর্যন্ত অনেক রেস্টুরেন্ট চোখে পড়ে যেখানে ‘রেষ্টুরেন্ট’ লেখা। যেতে যেতে হঠাৎ চোখ আটকে গেল আনোয়ার খান মর্ডাণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মেডিকেল কলেজের নামের বানানে ভুল করে মর্ডান না লিখে ‘মর্ডাণ’ লেখা! শুধু তাইনা তাঁদেরই ফার্মেসিতে ‘ফার্মেসী’ বানান লেখা। ল্যাব এইড হয়ে সাইন্সল্যাব দিয়ে এলিফ্যান্ট রোডে মধ্য দিয়ে গন্তব্য শাহবাগ। শাহবাগ পৌছানোর আগে কয়েকটি স্থানে এই বানানগুলি চোখে পড়ে ভিডিও গ্রাফী, কোম্পানী, ভূনাখিচুরী আর ঐ ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট এবং স্টোর তো আছেই। এই একই ধরণের শব্দে প্রায় স্থানেই ভুল বানান লেখা। গন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে বাংলা একাডেমিতে। একাডেমির মূল ভবনে ঢুকতেই লেখা ‘বাংলা একাডেমী’।

এবার গন্তব্য ঢাকা মেডিকেলের দিকে। মেডিকেলে ঢুকেই নজরে আসে বার্ণ এবং সার্জারী(বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিট) বানান ভুল। একটু পিছন ফিরলেই চোখে মিলবে ইমারজেন্সি কমপ্লেক্স-এর ইমারজেন্সী বানানই ভুল! এদিকে সেদিকে সব ইংরেজি বানানে ভুল দেখতে দেখতে শিশু একাডেমি তে এসে দেখা মেলে সেখানেও ‘একাডেমী’ বানান লেখা। এবার গন্তব্য প্রেস ক্লারের দিকে। যেতে যেতে দেখা মেলে সুপ্রিম কোর্টের বানান ভুল করে ‘সুপ্রীম’ লেখা। এক কাপ চা খেতে প্রেস ক্লাবে ঢুকে দেখা মেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কর্মচারী ইউনিয়ন এর রেজিস্ট্রেশন বানানটাই ষ দিয়ে লেখা। চা খেয়ে বের হয়ে নয়া পল্টন মোড় থেকে একটা ভুলে ভরা বানানের রেস্টুরেন্ট থেকে ভাত খেয়ে ভুল বানান দেখতে দেখতে গন্তব্য শেষ শাহবাগে এসে।

বিষেজ্ঞরা মনে করছেন এভাবে চলতে দেওয়া যাবেনা। প্রত্যেকটি মানুষকে তার নিজের স্থান থেকে সুদ্ধ বলা বা লেখার  ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সরকারকে এখনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ এবং অসুদ্ধ লেখা আইন করে বন্ধ করা উচিৎ। ভুলে ভরা বাংলা বানান নিয়ে কথা হচ্ছিল ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দারের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “স্কুল কলেজ থেকে বানানের ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে সব

শিক্ষকদের। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণ নিতে হবে তবুও আসল বাংলা বানান জানতে হবে সবাইকে। আপনার সামনে ভুল পড়লে আপনিই তাকে বলেন সুদ্ধটা করে নিতে। এভাবে সবাইকে সবার স্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে। আর বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে য়ে কোন বিদেশি শব্দে ণ, ষ এবং ঈ কার হবেনা। শুধু এই শহরে নয় বরং সারা বাংলায় এমন ভুল বানান লেখা হচ্ছে সর্বত্রই” বাংলাদেশ অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টটিউট এর উপপরিচালক বলেন, “স্কুলে নয় কলেজে নয় বিশ্ববিদ্যালয়

নয় এমকি ফুটপাতে বসে যে কম্পোজ করছে সেও ভুল বানান লিখবেনা যদি একটা ‘স্পেল চেকার’ থাকে। কারণ স্পেল চেকার সয়ংক্রিয় ভাবে বানানটিকে সুদ্ধ করে দিচ্ছে। আমরা একটা স্পেল চেকার তৈরি করার চিনতা করছি। আশা করি দ্রুতই আমরা সফল হব।” আপনারা বানান ভুল লিখেন, কেন এই প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল একটি ফার্মেসির মালিকের সাথে।

তিনি বলেন, “বানান দিয়ে আমরা কি করব? বানান ভুল থাকলেও বেচা কেনা কম বেশি হবেনা। এখন যা হচ্ছে তাই হবে। আর এগুলো তো আমরা লিখিনা, যারা লেখে তারাই ভুল করে, যদিও আমাদের দেখে নেওয়া উচিৎ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তার আক্ষেপের কথা বলেন বানান নিয়ে, ছোট বেলা থেকে বইয়ে শিখে এসেছি এক রকম আর এখন দেখছি একেক রকম। এতে করে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি আসলে কোনটি সঠিক। শুধু তাই’ই নয় বিভিন্ন লেখকের লেখা বইতেও বানান ভুল লেখা থাকে, এটা খুবই দুঃখ জনক ব্যাপার। আমরা যা পড়ি বা দেখি সেটাই মাথায় থাকে আমাদের।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

− 1 = 2

Skip to toolbar