Main Menu

মুক্তি পেলেন বিনা দোষে আটক জাহালম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৩৩ মামলার ভুল আসামি জাহালমকে তিন বছর পর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে  রাতে মুক্তি দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় তার মুক্তির কাগজপত্র কাশিমপুর কারাগারে পৌছালে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেয়।

এ ব্যাপারে কাশিমপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত বালা জানান, গতকাল রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে জাহালমকে মুক্তি দেয়া হয়। জাহালমের ভাই ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে জাহালমের মুক্তির শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে আমাদের দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তার স্থায়িত্ব থাকবে না। দেশ পাকিস্তান হতে বেশি সময় লাগবে না, আমাদের ভিক্ষা করতে (পথে) বসতে হবে। এই দেশের জন্য দুদকের মতো একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আদালত বলেন, টিআইবি কি রিপোর্ট দিলো সেটা আমাদের কনসার্ন নয়, কারণ টিআইবি ভুল করতে পারে। কিন্তু ভুল তদন্তের দায় দুদকের এড়ানোর সুযোগ নেই। অর্থ আত্মসাতের মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করার ঘটনার শুনানিতে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ মন্তব্য করেন।

দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খানের উদ্দেশে আদালত বলেন, আমরা দুদকের কাজে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করুক সেটা আমরাও চাই। আগেও ব্যাংকের দুর্নীতি মামলায় আপনাদের সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করে তাকে কারাগারে আটক রাখলেন। কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে এক মিনিটও কারাগারে আটক রাখার পক্ষে আমরা নই। দুদককে অবশ্যই স্বচ্ছ থাকতে হবে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তদন্তে ভুল করার সুযোগ নেই। যদি কোন সিন্ডিকেট এর সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে চিহ্নিত করে আদালতকে জানাতে হবে।

বৃহস্পতিবার “৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে: ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না”-শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন এই জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক। প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট দুদক মহাপরিচালক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, স্বরাষ্ট্র ও আইন সচিবের একজন করে প্রতিনিধিকে তলব করে। ওই তলব আদেশে গতকাল তারা আদালতে হাজির হন।

শুনানিতে দুদক কৌঁসুলি বলেন, কেন্দ্রীয় ও সোনালী ব্যাংক থেকে তথ্য পাওয়ার পরই সালেকের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে। অনুসন্ধানে জাহলমের নাম উঠে আসে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, যাকে আসামি করা উচিত ছিল তাকে না করে আরেকটি জজ মিয়া নাটক সৃষ্টি করলেন? অনেক মামলায় দেখছি কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামার আগেই নোটিস দেন। অনুসন্ধান শেষে দেখা যায় তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তাহলে কেন এই নোটিস? অপরাধী না হওয়ার পরেও একজনকে জেল খাটতে হলো-এটা কেন? দুদক কৌঁসুলি বলেন, জাহালমের বিষয়টি যখনই নজরে এসেছে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালত বলেন, তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরেও কেন মুক্তির ব্যবস্থা করেননি? ওই আইনজীবী বলেন, আদালত সব মামলা থেকে অব্যাহতি দিলে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না। এরপরই হাইকোর্ট জাহলামকে মুক্তি দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

8 + 2 =

Skip to toolbar