Main Menu

লাশ গ্রহণ করলেন পলাশের বাবা, দাফন সম্পন্ন

ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খি’ উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী নিহত মাহাদীর ওরফে মাজিদুল ওরফে পলাশ আহমেদের আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুরের দুধঘাটায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পলাশের বাবা পিয়ার জাহান জানান বলেন, ছেলের লাশ দেখা বা গ্রহণ করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না।স্বজনদের চাপে ও প্রশাসন তাকে ডাকায় সোমবার রাতে তিনি লাশ নিতে চট্টগ্রামে যান।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার। লাশ নিয়ে রাতই নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সোমবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে পিয়ালের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল।

এদিকে রাতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন বিভাগের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদী হয়ে পলাশসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও অপরাধ দমন আইনে পতেঙ্গা থানায় মামলা করেন। এর আগে পলাশের মরদেহ গ্রহণ ও দাফন করতে আপত্তি জানান তার বাবা পিয়ার জাহান।

এ সময় পলাশের বাবা পি আর জাহান জানান, ৫ বছর ছেলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক নেই। ওর উচ্ছৃঙ্খল জীবন নিয়ে এতটাই অতিষ্ঠ ছিলেন যে, একপর্যায়ে তিনি কামনা করেন, হয় ছেলে ভালো হোক, না হয় মারা যাক। বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে পলাশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তিনি।

পি আর জাহান (পলাশের বাবা) অনেক বছর বিদেশে ছিলেন। প্রথমে কুয়েত এবং পরে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটান তিনি। আর তার পাঠানো টাকা-পয়সা নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করে আসছিল পলাশ। এর মধ্যে নাচ-গান থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রশিল্পে পর্যন্ত জড়ায় সে। কয়েকটি শর্টফিল্মও তৈরি করে। একপর্যায়ে ঢাকায় থাকা শুরু করে।

বাড়িতে তেমন যাওয়া-আসা ছিল না। মাঝেমধ্যে টাকার প্রয়োজন হলে বাড়ি আসত। পি আর জাহান সাত বছর আগে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। পলাশ তার পাঠানো সব টাকা নষ্ট করেছে। বাধ্য হয়ে এলাকায় একটি মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। পলাশরা চার ভাইবোন। এর মধ্যে তিনজন বোন। মা রেনু আক্তার গৃহিণী।

প্রসঙ্গত, ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুবাইগামী বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি অস্ত্রধারী পলাশ ‘ছিনতাইয়ের’ চেষ্টা করে। পরে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়। বিমান ‘ছিনতাই’ চেষ্টাকারী সন্দেহভাজন অস্ত্রধারীকে ধরতে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। পরে ওই অভিযানে গুলিতে মারা যান পলাশ।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

14 − 13 =

Skip to toolbar