Main Menu

শোকাবহ ১৫ আগস্ট

আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান…..সর্বকালে বঙ্গবন্ধু প্রজন্মের কাছে থাকবে নিবেদিত প্রাণ

13906633_525315047661649_5458700689860022142_nআখতার-উজ-জামান: আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান…..সর্বকালে বঙ্গবন্ধু প্রজন্মের কাছে থাকবে নিবেদিত প্রাণ
৪১টি বছরের এই লম্বা সময়ে নোংরা রাজনীতির কারণে অবিসংবাধিত নেতা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দল ও মতের উর্ধে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। যে মানুষটি নিজের কখনো সুখের কথা ভাবেননি। শুধু প্রাণপণে মরিয়া হয়ে ওঠেছিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিকে কিভাবে উন্নয়নের দোগড়ায় পৌঁছানো যায়। কিভাবে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর মুখে হাসি ফোটাবে, কৃষক, শ্রমিক, দিনমুজুর মেহনতি মানুষের মনটাকে প্রফুল্ল রাখবে-এই ছিলো বাঙ্গালী জাতির পিতার বিশাল এক স্বপ্ন। আজ আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীন-স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। সত্যিকারের সুখী সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাওয়ার সময় এসেছে এখনই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাঙ্গালী জাতিসহ পুরো বিশ্বের আকাশে-বাতাসে নিস্তব্ধতায় ঢেকে দিয়েছিল সেই রাতের একটি বর্বরোচিত ঘটনায়। যেই ঘটনাটি আজো বাঙ্গালীর মন কাঁদে, বিশ্বের প্রথম সারির দেশ নেতৃত্বকারীরা হতবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছে; বাঙ্গালী মেধাবী নেতা বঙ্গবন্ধুসহ স্বপরিবারের কিভাবে হলো এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। বাংলার মাটির শ্রেষ্ঠ সন্তান পদ্মা-মেঘনা-যমুনার বহমান জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পুরোপরিবারটির ওপর বিপথগামী নরপশুরা সেই রাতে কেন লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো। জাতির পিতার দুই আত্মজা যদি স্বদেশে থাকতেন, তবে ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেট তাদের জীবনকেও নিঃসন্দেহে ছিনিয়ে নিতো। পনের আগস্টের হত্যাকারী ও দেশি-বিদেশি মাস্টারমাইন্ডরা গরম মাথার নির্বোধ মহলবিশেষ ছিল না। দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নিতে ওরা পরিকল্পনা তৈরি করেছিল দেশ-বিদেশের অশুভ শক্তির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে। ফলে নীলনকশাটি সর্বাঙ্গীন ও সুদূরপ্রসারি ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছিল। জাতির পিতার রক্ত রাখা যাবে না এই বাংলার মানচিত্রে, এমনি ছিল ওই নরঘাতক চক্রের লক্ষ্য। ‘ শোন একটি মুজিবুরের থেকে লক্ষ মুজিবুরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে উঠে রণি’ গানটির মাহাত্ম্য ওরা মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে উপলব্ধি করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির অবিসংবাদিত মহান নেতাকে এবং নেতার পরিবারকে বাগে পেয়েও না মেরে ফেলার ভুলটা পঁচাত্তরে এসে তারা আর করতে চায়নি। নির্বংশ করতে চেয়েছিল শেখ মুজিবের বৃহত্তর পরিবারকে। তাই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা যদি দেশে থাকতেন, তবে মৃত্যু ছিল তাদের জন্য অবধারিত। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে? বিদেশে থাকার সুবাদে আকস্মিকভাবে বেঁচে যান দুই কন্যা। দেশের নিয়তিই যেন এ দুজনকে করেন রক্ষা। চরমতম দুর্ভাগ্যের মধ্যেও সৌভাগ্য তাদের, বেঁচে যান তারা। তবে সৌভাগ্য জাতিরও; নতুবা নিজ দেশে পরবাসী হয়ে আজও থাকতে হতো বাঙালি জাতিকে। আকস্মিক ও সৌভাগ্যবশত বেঁচে ছিলেন বলেই স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু দুহিতা শেখ হাসিনা। কেন দেশ উন্নয়নের রূপকারকে এই নির্মমভাবে চলে যেতে হলো, সেই প্রশ্নটি আজ সাড়ে ষোল কোটি বাঙ্গালীসহ পুরো বিশ্ববাসীর। কিন্তু বাঙ্গালী জাতি মনে প্রাণে ভাবে আজো গ্রাম বাংলার মহিয়ান এই ত্যাগী দেশপ্রেমী শেখ মুজিবুর রহমান এখনও মরেনি। তিনি পুরো গোটা জাতির মাঝে বেঁচে আছেন ৪৫ বছরের আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক মানচিত্রে। এই মহান নেতার সুযোগ্য ‘দু’টি মায়ের জাত’, ‘দু’টি এতিম কন্যা সন্তান’, ‘দু’টি অবুঝ মনের বাঙ্গালীর হৃদয়ে সংস্পর্শে অতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছেন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা’। সুন্দর সাজানো-গোঁছানো পরিবারটিকে এক নিমিষেই শেষ করে ঐ নরপশুদের কি লাভ ছিলো? তারা তো দেশের উন্নয়নকে বাধা গ্রস্ত করা; নাকি নিজের অসিস্ত¡কে টিকিয়ে রাখার ঘটিয়েছিলো এই হত্যাকান্ড। কিন্তু ঐ নরপশুরা এতো বড় হত্যাযজ্ঞ করার পরও অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে কিভাবে বাংলার মহিয়ান এই নেতা এখনও বেঁচে আছেন? হ্যাঁ বঙ্গবন্ধু এখনও বেঁচে আছে আজকের সাড়ে ষোলকোটি বাঙ্গালীসহ দুটি এতিম কন্যা সন্তান আর আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের রোল মডেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহেনার মাঝে।
আমার মত এই নতুন প্রজন্মের একটি দাবি বিশ্বের দরবারে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাধিত নেতা বঙ্গবন্ধুসহ পুরোপরিবারটিকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যার করেছে এদেশেরই বিপথগামী নরপশুরা, ঐসব নরপিশাচদের বাংলার মাটিতে বিচারটি শেষ করে দেখার। যদিও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার হয়েছে। এখনও বিদেশের মাটিতে পলাতক রয়েছে আরও ছয় খুনি। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত এই ছয় খুনি পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই যেভাবেই হউক এসব খুনিদের বের করে এই বাংলার মাটিতে বাকী ছয় নরপশুর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার। হ্যাঁ বঙ্গবন্ধু নেই আজ এই বাংলায়; কিন্তু বাংলার রূপকারের উন্নয়নের ছোঁয়া আর দেশমাতৃকার ভালবাসায় বুঝিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধু সাড়ে ১৬ কোটি বাঙ্গালীর মাঝে এখনও বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। আর জাতির জনকের ঐ নির্মমভাবে পুরো পরিবারকে হত্যার সময় মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আল-আমীনের অশেষ কৃপায় এখনও বেঁচে আছেন পিতৃমাতৃহীন বঙ্গবন্ধুর দুই মেধাবী কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসামপ্ত উন্নয়ন কার্যক্রম রেখে যাওয়া বাকী কাজগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন এই মহান নেতার সাহসী ও ত্যাগী কন্যা জননেত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার মহান এ স্থপতি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়িয়ে বাঙালির কাছে পৌঁছে দেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার মন্ত্র। সে মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে স্বাধীন দেশে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি আজ বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশে।। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রলীগ গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন ও ৬৬’র ছয় দফা প্রণয়নে ভূমিকা রেখে এবং ১৯৬৮ সালে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৬৯ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কারামুক্ত হন শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর তাকে বঙ্গবন্ধু খেতাবে ভূষিত করে ছাত্ররা। ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতার ডাক দেন তিনি। তার নেতৃত্বে রক্তাক্ত সংগ্রামেই অভ্যূদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। আর স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের। কোন অপশক্তিকে কাছে টেনে না নিয়ে সাড়ে ষোল কোটি বাঙ্গালী তার স্বাধীনতার স্বাধকে ভালোভাবে উপলব্ধি করা অপরিহার্য। তাতে বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদের রক্তের ঋণ শোধ হবে; তাদের বিদেহী আত্মা শান্তিলাভ করবে। ১৯৭৫ থেকে ২০১৬। কেটে গেছে ৪১টি বছর। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে দলমত নির্বিশেষে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সততার স্বাক্ষর রাখতে পারিনি। আমরা যখন ব্যর্থতার দায়ভারে জর্জরিত ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শত প্রতিকুলতার মাঝেও ২০২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। অতীতে কোন সরকার প্রধান এ ধরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস দেখাতে পারেননি। বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।……..‘কী বীভৎসতা! রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বাড়িটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাঁচ, মেঝে ও ছাদে। রীতিমতো রক্তগঙ্গা বয়ে যায় বাড়িটিতে। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে আছেন ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরা স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। নিথর দেহের পাশেই তাঁর ভাঙ্গা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, টেলিফোন অপারেটর, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নিচ তলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবির ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ।’ তখনকার সাড়ে সাতকোটি বাঙ্গালীর মনে অনেক বড় একটি আঘাত যার ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে করতে আজকের সাড়ে ষোল কোটি মানুষ ভাবছে আর বলছে এ কি পরিণতি হলো স্বাধীন সার্বভৌম বাঙ্গালীর মহীয়ান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পুরো পরিবারটির। ভাবতেই চোখের জল টলমল করতে থাকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া এতিম দু’টি মানসকন্যার দিকে তাকিয়ে।
সেই বাধার প্রাচীর ডিঙিয়ে অবশেষে বিচারের বাণীর নিভৃত কান্নার অবসান ঘটল ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাতের পর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির রায় কার্যকর হয় পাঁচ আত্মস্বীকৃত খুনির। কলঙ্কমুক্তির আনন্দে উদ্বেল হয় গোটা দেশ। এখনও বিদেশের মাটিতে পলাতক রয়েছে আরও ছয় খুনি। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এই ছয় খুনি পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, কার্যকর করা হবে মৃত্যুদন্ডাদেশ- এই প্রত্যয় আর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই পালিত হচ্ছে জাতীয় শোকদিবস। যিনি ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের মেশিনগানের মুখেও ছিলেন অকুতোভয়, প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?- সেই অনির্বাণ সূর্যের প্রখর ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর দৈহিক বিনাশ ঘটলেও তার আদর্শের মৃত্যু হতে পারে না। মানুষ মরে যায়, আদর্শ মরে না। বঙ্গবন্ধু কোন ব্যক্তিমাত্র নন, অবিনশ্বর এক আদর্শ ও প্রেরণার নাম। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সেই প্রেরণাতেই। ৪০ বছর আগে সেই রাতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ছাড়াও স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসেরকে হত্যা করে। সেই রাতেই নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপৌত্র সুকান্ত বাবু; বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু। ধানমণ্ডির বাড়িতে পুলিশের বিশেষ শাখার সাব ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু ভবনের অদূরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলকেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান। বাংলাদেশকে জীবন দিয়ে ভালোবেসেছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশে ফিরে আসার পর রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে তিনি আরো বলেন, ‘ইয়াহিয়া খান আমার ফাঁসির হুকুম দিয়েছিলেন। আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান। বাঙালিরা একবারই মরতে জানে। তাই আমি ঠিক করেছিলাম, আমি তাদের কাছে নতিস্বীকার করব না। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। তাদের আরো বলেছি তোমরা মারলে ক্ষতি নাই। কিন্তু আমার লাশ বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ো।’ এই বাক্যটির ভেতর দিয়েই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তাঁর অসীম মমতা প্রকাশ পায়। দূরদর্শী এ জননায়ক সেই ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন জনসভায়। তাঁর ভাষণে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ মাসে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ দেশের প্রায় সব বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে। তারা আমার মানুষকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। বিশ্ব এসব ঘটনার সামান্য কিছুমাত্র জানে। বিশ্বকে মানব ইতিহাসের জঘন্যতম কুকীর্তির তদন্ত অবশ্যই করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বর্বর পাকবাহিনীর কার্যকলাপের সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।’ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে এলেও এ দেশের কিছু মানুষের চক্রান্তে শেষ পর্যন্ত দেশের মাটিতেই জীবন দিতে হয়েছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের এই মহান নেতাকে। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর নীতি ও আদর্শ রয়ে গেছে। সেই আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পারি। গড়ে তুলতে পারি তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা। যেই মানুষটি মায়ের ভাষার আন্দোলন আর স্বাধীনতার রূপকার সেই মানুষটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এই দেশেরই নরঘাতকরা। তারা কি একবার চিন্তা করলো না যে এই মানুষটির বেঁচে থাকার কথা; আর আজকের গৌরবময় বাংলাদেশের উজ্জল দৃষ্টান্তের কথা। হ্যাঁ বঙ্গবন্ধু নেই আজ এই বাংলায়; কিন্তু বাংলার রূপকারের উন্নয়নের ছোঁয়া আর দেশমাতৃকার ভালবাসায় বুঝিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধু সাড়ে ১৬ কোটি বাঙ্গালীর মাঝে এখনও বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। আর জাতির জনকের ঐ নির্মমভাবে পুরো পরিবারকে হত্যার সময় মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আল-আমীনের অশেষ কৃপায় এখনও বেঁচে আছেন পিতৃমাতৃহীন বঙ্গবন্ধুর দুই মেধাবী কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসামপ্ত উন্নয়ন কার্যক্রম রেখে যাওয়া বাকী কাজগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন এই মহান নেতার সাহসী ও ত্যাগী কন্যা জননেত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই উজ্জল নক্ষত্র আর বাংলার রূপকার তাঁর পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে সবসময় নিজকে সচেষ্ট রাখেন। সেজন্য দেশবাসীর কাছে প্রার্থনা এই পিতৃমাতৃহীন এবং সাড়ে ষোল কোটি বাঙ্গালীর বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহেনাসহ পরবর্তী বংশোধরদের দীর্ঘায়ু কামনা।

 

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

72 − = 67

Skip to toolbar