Main Menu

‌রেইন ট্রির বিরুদ্ধে মাদক, ভ্যাট ও শুল্ক আইনে ব্যবস্থা……

বহুল আলেচিত রাজধানীর বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আত্মসাতের প্রমাণসহ বেশ কিছু বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান। তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদক, ভ্যাট ও শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

রেইট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বি এইচ আদনান হারুনসহ চারজনকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মইনুল খান।

অপরদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হোটেলটির এমডি আদনান হারুন ও তার আইনজীবী। বারের কোনো লাইসেন্স না থাকলেও হোটেলে কীভাবে মদ এলো-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আদনান হারুন বলেন, তা তিনি জানেন না। এটা হোটেল ম্যানেজার বলতে পারবেন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়ে হাজির হন বনানীর রেইন ট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এইচ আদনান হারুন। এ সময় তার সঙ্গে চাচা মজিবুল হক কামাল, ফুপা আকবর হোসেন মঞ্জু, চাচাতো ভাই হাসিব রুমি ও আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির ছিলেন। বেলা ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত টানা আড়াই ঘণ্টা আদনান হারুনসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অধিদফতরের যুগ্ম পরিচালক শফিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান গণমাধ্যমকে বলেন, রেইন ট্রি কর্তৃপক্ষ আমাদের জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা আরো তদন্ত করব।

তিনি বলেন, ওই হোটেলটি ৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে ১৪ মে পর্যন্ত অতিথিদের কাছ থেকে ভ্যাটের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করলেও সরকারি তহবিলে জমা দিয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। অথচ এটাকে তারা নিজেদের লাভ বা প্রফিট হিসেবে দেখিয়েছে। শুল্ক অধিদফতরের হিসেবে এই সময়ে তারা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকার। তাই এটা আত্মসাতের পর্যায়ে পড়ে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রেইন ট্রি লোকজন দাবি করেছেন, অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা মদ অতিথিরা এনেছিল। তবে তারা চলে যাওয়ার সময় এগুলো রেখে যায়। এরপর তা হোটেলটির ১০১ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই এগুলো উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে জানায়নি। ফলে এটাও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। দ্য রেইন ট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মাদক, ভ্যাট ও শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

রেইন ট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির জানান, শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তারা। শুল্ক কর্তৃপক্ষ যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল তার সবগুলোই তারা জমা দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর সন্তুষ্ট।

এর আগে ১৭ মে উপস্থিত হয়ে হোটেলে মদ রাখার ব্যাখ্যা দেয়ার কথা ছিল বি এইচ আদনান হারুনের। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সেদিন হাজির হননি তিনি। এ সময় তার আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির অধিদফতরে হাজির হয়ে এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ মে সশরীরে অধিদফতরে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়।

জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে গত ২৮ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা করেন নির্যাতিত এক তরুণী। মামলার আসামিরা হলেন— আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের মামলার পর গত ১৪ মে হোটেল রেইন ট্রি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

এদিকে এ মামলার পাঁচ আসামিকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামি ‘ধর্ষক’ সাফাত আহমেদ ও তার সাদমান সাকিফ ও গাড়ি চালক বিল্লাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া আলোচিত এ মামলার দুই নম্বর আসামি ‘ ধর্ষক’ নাঈম আশরাফকে ওরফে হালিম বর্তমানে সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

4 + 1 =

Skip to toolbar